heart

হার্ট এর যত্নে যা খেতে হবে  

হার্ট এর যে মারাত্মক সমস্যাগুলো হয় সেই সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো হার্ট এটাক।  আর হার্ট এটাক হয় হার্ট এ ব্লকের কারণে।  কিন্তু কেন এই হার্ট ব্লকটা হয়? হার্ট ব্লকটা হয় সাধারণত লাইফ স্টাইলের কারণে।   

আপনার লাইফ স্টাইল যদি ভালো না হয় , আপনি যদি অনেক উল্টা পাল্টা খাবার খান , নিয়মিত ব্যায়াম না করেন , আপনার লাইফ এ যদি অনেক স্ট্রেস এঞ্জাইটি থাকে তাহলে কিন্তু আপনার হার্ট এ ব্লক তৈরী হয়ে যেতে পারে।  আবার আপনি যদি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খান , ব্যায়াম না করেন তাহলে আপনার ডায়াবেটিস , উচ্চরক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে আর তা থেকেও হার্ট এ ব্লক তৈরী হতে পারে। আপনি যদি খাবার দাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খান তাহলে হার্ট এর সমস্যাসহ অনেক গুলো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।  যেমন – ডায়াবেটিস , হাইপারটেনশন প্রতিরোধ হবে , হার্ট এ ব্লক তৈরী হবে না।   

তাই আজকের এই লিখাটা হচ্ছে মূলত সেইসব বিষয় নিয়ে  অর্থাৎ কোন কোন খাবার গুলো খেলে আমাদের হার্ট ভালো থাকবে তা আলোচনা করা।  

হার্ট ফ্রেন্ডলি খাবার-দাবারকে বলা হয় মেডিটেরিয়ান ডায়েট।  মেডিটেরিয়ান ডায়েট হলো এই খাবারে ফলমূল বেশি থাকবে , শাকসবজি বেশি থাকবে , মাছ থাকবে , রেডমিট থাকবে না  ( রেডমিট হলো গরু , খাসির মাংস থাকবে  না কিন্তু মুরগির মাংস খাওয়া যাবে ) , দুধ এবং দুধ দিয়ে বানানো খাবার খাওয়া যাবে , ফলমূল এবং শাকসবজি সালাদ এসব খাবার বেশি পরিমানে রাখতে হবে।  

একটা কথা আছে আর তা হলো প্লান্ট বেসড ডায়েট হার্ট এর জন্য খুব ভালো। এই ক্ষেত্রে আপনি যে খাবার গুলো খাবেন তা যেন ৫০% আনকুকড হয়।  যেমন – সালাদ , শশা , গাজর, বিভিন্নরকম ফল।  দৈনিক ৩-৫ বার চেষ্টা করবেন ফলমূল খাওয়ার জন্য তাহলে হার্ট ভালো থাকবে।  

সবজি রান্না করার সময় খেয়াল রাখতে হবে সবজিতে থাকা ভিটামিন, মিনারেলস যেন ধ্বংস হয়ে না যায়।  অল্প তাপে অল্প তেলে সবজি রান্না করতে হবে তখন তা হার্ট ফ্রেন্ডলি হবে।  যদি সম্ভব হয় তাহলে রান্নায় তেল এভোইড করতে হবে।  খুব ভালো ভালো সবজি অতিরিক্ত পরিমানে তেল দিয়ে খেলেও তা কোনোই উপকারে আসবে না।  তেল আপনার ভিতরে ঢুকে গেলে ওখান থেকে ও হার্ট এ ব্লক তৈরী হতে পারে।  

সুতরাং আপনি যদি চান যে আপনার হার্ট সুস্থ থাকুক তাহলে আপনাকে খাবার দাবারের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।  বিশেষ করে মিষ্টি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার সম্পূর্ণরূপে এভোইড করে চলতে হবে।  চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলতে হবে।  শর্করা জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমানে খেতে হবে।  

খাবারের তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখবেন।  বিশেষ করে , ফলমূল, শাকসবজি , সালাদ ইত্যাদি খাবারগুলো খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।  আর যে খাবারগুলো বাদ দিতে হবে তা হলো চর্বি জাতীয় খাবার , রান্নায় তেল , মিষ্টি  এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার।  আর ও যে খাবার গুলো বাদ দিতে হবে তা হলো – পাউরুটি , বার্গার , পেটিস , জিলাপি , পিজা ইত্যাদি।  

অনেকে আবার একই তেল বার বার ইউস করেন।  এই কাজটি করা যাবে না।  তেলে প্রথমবার যে খাবার তৈরী করা হবে এরপর ওই তেল আর ব্যবহার করা যাবে না।  

আপনি যদি হার্টকে ভালো রাখতে চান তাহলে যে কয়েকটা বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে যেমন – নিয়মিত ব্যায়াম করা , খাবার- দাবার , এঞ্জাইটি ফ্রি লাইফ স্টাইল ইত্যাদি।  আর এদের মধ্যে খাবার হলো হার্ট কে সুস্থ রাখার জন্য বিশাল ভূমিকা পালন করে।  আপনি স্বাস্থ্যকর  খাবার   খাওয়ার মাধ্যমে  আপনার হার্ট কে সুস্থ রাখতে  পারেন।  

উৎস :

ডাঃ গোলাম মোর্শেদ 

মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিলজিটস 

গ্রিন লাইফ হাসপাতাল , গ্রিন রোড ঢাকা 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.