stroke

স্ট্রোকের কারণ, লক্ষণ ও ঝুঁকি এড়ানোর উপায়

স্ট্রোকের কারণ, লক্ষণ ও ঝুঁকি এড়ানোর উপায়

 

স্ট্রোক কি?

সাধারণ ভাষায় স্ট্রোক বলতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাকেই বুঝানো হয়।  মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিলে সেই অংশের কোষ কার্যক্ষমতা হারায়।  আর এই অবস্থাটাকে  স্ট্রোক বলে পরিচিত।  

 

 স্ট্রোক সাধারণত ২ ধরণের হয়ে থাকে।  যেমন – রক্তক্ষরণজনিত বা হেমোরেজিক স্ট্রোক এবং আরেকটি হলো স্কিমিক স্ট্রোক, এতে রক্তক্ষরণ হয় না।  স্ট্রোকের কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে তাই এর লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।  

 

স্ট্রোকের লক্ষণ কি কি ? 

 

ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা NHS বেশ কিছু লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছে। যেমন – 

 

  • এক পাশে মুখ ঝুলে যেতে পারে।  

 

  • হয়তো হাসতে পারবেন না বা কথা বলতে পারবেন না ঠিক মতো।  

 

  • মুখের এক পাশ বা চোখ বেঁকে যেতে পারে ,অর্থাৎ অবশ হয়ে যেতে পারে। 

 

  • কারো কারো ক্ষেত্রে দুই হাত অবশ হয়ে যেতে পারে।  

 

  • অবশ না হলেও হাত নাড়াতে দুর্বল লাগবে। 

 

  •  কারো ক্ষেত্রে আবার একপাশ অবশ হয়ে যায়।  

 

  • আসতে কথা বলা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া 

 

  • কথা বললেও তা অস্পষ্ট শোনা যায় 

 

  • অনেক সময় কথা বুঝাতেও পারেন না অনেক রোগী 

 

স্ট্রোকের কারণ কি কি? 

 

ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা NHS জানাচ্ছে প্রধানত ২টি কারণে স্ট্রোক হয়ে থাকে।  

 

 স্কিমিক স্ট্রোক – রক্ত জমাট বাঁধার কারণে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।  

 

হেমোরেজিক স্ট্রোক – মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী দুর্বল রক্তনালী ফেটে যায় , ফলে রক্তক্ষরণ হয়।  

 

এছাড়াও আরেক ধরণের স্ট্রোক দেখা যায় যাকে মাইল্ড স্ট্রোক বলে।  এক্ষেত্রে সাময়িক সময়ের জন্য মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।  এটি ১৫ সেকেন্ড থেকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।  এই অবস্থায় খুব দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রা। কারণ , এর ফলে কোনো ব্যক্তি খুব দ্রুত  বড় ধরণের স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।  

 

করণীয় কি কি? 

 

লক্ষণগুলো দেখা মাত্র খুব দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।  এরপর সিটি স্ক্যান বা এম আর আই করে দেখতে হবে এটি কোন ধরণের স্ট্রোক।  আর এর উপরেই চিকিৎসা নির্ভর করে।  রক্ত জমাট বাঁধা দূর করতে, রক্তচাপ এবং কোলেস্টরেলের পরিমান কমাতে অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি কাজ করে।  

 

তবে কিছু ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বেশি বাঁধলে রোগীর সার্জারিও করতে হয়।  স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ডায়াগনসিস বা রোগ নির্ণয় খুব জরুরি।  যত আগে চিকিৎসা শুরু হবে সুস্থ হওয়ার সুযোগ ততো বেড়ে যাবে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ব্যক্তি যদি চর্বি জাতীয় খাবার এবং ধূমপান এড়িয়ে চলেন ,  হাইপার টেনশন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন তাহলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। এছাড়াও উচ্চরক্ত চাপ এবং ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে।  নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।    

 

উৎস : 

বিবিসি বাংলা 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.