sugar

ডায়াবেটিসের জন্য কি শুধুমাত্র মিষ্টি বা চিনিই দায়ী ?

চিনি , শর্করা বা সুগার যেভাবেই আমাদের কাছে তা পরিচিতি লাভ করুক না কেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বিজ্ঞানী আর ডাক্তাররা এখন এটির উপকারিতা / অপকারিতা সম্পর্কে বেশ অবগত। আর তাই ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা এর জন্য সতর্কবার্তা ও পেশ করেন বেশ জোরে সরেই। শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার নিমিত্তে অনেক বিশেষজ্ঞ চিনি কম খেতে বলেন আবার ক্ষেত্র বিশেষে তা খাবার তালিকা থেকে একেবারে বাদ ও দিতে বলেন। 




আসলে এইখানেও একটা “কিন্তু” থেকে যায় তার কারণ সব সমস্যার জন্য যে শর্করা দায়ী তা নাও হতে পারে।মিষ্টি কিভাবে আমাদের শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন , এটি প্রমান করা খুব কঠিন।উচ্চরক্ত চাপ বা কোলেস্টেরলের মতো সমস্যার ঝুঁকি তখনই হয় যখন কেউ একজন উচ্চ ক্যালোরি সমবৃদ্ধ খাবারের সাথে উচ্চ মাত্রায় শর্করা জাতীয় খাবার খাচ্ছেন।  

বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন যে শুধু মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবারের জন্য যে স্বাস্হ্য ঝুঁকি হয় এটা বলা যায় না।  তাছাড়া শুধুমাত্র  একটি খাবারকে সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রেও অনেক বিপদ আছে।এর ফলে এমন হতে পারে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো খাবার হয়তো আপনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেন।  

বাঁচতে হলে চিনি ছাড়ুন , মিষ্টি ছাড়ুন এসব কথার কোনো ভিত্তি নাই। চিনিযুক্ত খাবারে অনেক ক্যালোরি থাকে।  আর অনেক ক্যালোরি গ্রহণ করলে তা মিষ্টি খাবার থেকে হোক বা অন্য কোনো উপায়ে, ওজন বাড়বে এবং এটাই স্বাভাবিক।  পুষ্টিবিদেরা বলে থাকেন চিনি জাতীয় খাবার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। কিন্তু দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা মেটাতে কি পরিমান মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার প্রয়োজন তা জানতে হবে।  কারণ শরীরের যতটুকু চিনি দরকার তত টুকু চিনি নিতে হবে। কম বা বেশি দুইটাতেই বিপত্তি। 

আমাদের মাঝে একটা ধারণা বিদ্যমান আছে আর তা হলো , মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় ! আসলেই কি তাই ? উচ্চ মাত্রার ফ্রুকটোজ সমৃদ্ধ কর্ন সিরাপ বা বাড়তি চিনিওয়ালা পানীয় যেমন , জুস্ , ড্রিংক বা সাদা চিনি এগুলো হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরী করতে পারে কারণ তা ধমনীর ভিতর ট্রাইগ্লিসারাইড জাতীয় চর্বি জমাতে সাহায্য করে।বিভিন্ন জরিপে এই বাড়তি যোগ করা চিনি সমৃদ্ধ খাবার বা পানীয়র সাথে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হওয়ার সম্পর্ক দেখা গিয়েছে।  কিন্তু চিনির কারণেই যে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস হয় এটা স্পষ্ট করে বলার উপায় এখনো নেই।  এছাড়াও টাইপ ওয়ান এবং টু ডায়াবেটিস জেনেটিক  এবং পরিবেশগত কারণেও হয়ে থাকে। সেখানে শুধুমাত্র মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবারকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।      

তথ্যসূত্র : 

বিবিসি বাংলা  

(পরিমার্জিত )          

 

    

Leave a Reply

Your email address will not be published.