kidney

কিডনী সিস্ট

আজকে আমরা আলোচনা করবো  কিডনীতে সিস্ট এই বিষয় নিয়ে। কিডনী সিস্ট কি , কিডনীতে সিস্ট হওয়ার কারণগুলো কি কি এবং এর প্রতিকার কি ইত্যাদি এসব বিষয় নিয়ে হবে আজকের আলোচনা।  

কিডনী আমাদের শরীরে সারাদিন প্রায় ১৭৮ লিটার ইউরিন প্রোডাকশন করে কিন্তু সারাদিনে একজন মানুষ হয়তোবা দের থেকে দুই  লিটার পর্যন্ত ইউরিন নির্গত করে থাকে।  কিডনীকে ১৭৮ লিটার ইউরিন ফিল্টার করে তার থেকে আবার রিপ্রসেসিং করে মাত্র দের থেকে দুই  লিটার পর্যন্ত ইউরিন তৈরী করতে হয় আর এই পুরো কাজটি করতে গিয়ে কখনো কখনো কিডনীর ওয়ালের ভিতরে ছোট ছোট   সিস্ট তৈরী হয় যা কিডনীতে সিস্ট হিসেবে পরিচিত।  

সাধারণভাবে যে সিস্ট দেখা যায় তাকে বলা হয় সিম্পল সিস্ট।  সিম্পল সিস্ট খুব সাধারণ একটা ব্যাপার।  এর জন্য চিন্তিত হওয়ার ও তেমন কিছু নেই।  সিম্পল সিস্ট এর ক্ষেত্রে কোনো ধরণের সিম্পটম বা লক্ষণ ও দেখা যায় না।   সচরাচরভাবে সিম্পল সিস্ট কোনো একটা সমস্যার জন্য জটিলতা তৈরী করে না।  

এছাড়াও আরো কিছু ডিজিস আছে যেগুলো কিডনীতে সিস্ট এর কারণে হয়ে থাকে। যেমন – পলিসিস্টিক কিডনী ডিজিস।  পলিসিস্টিক কিডনী ডিজিস এর ক্ষেত্রে অনেকগুলো সিস্ট একসাথে কিডনীতে দেখা যায়। পলিসিস্টিক কিডনী ডিজিস সাধারণত বংশ পরম্পরায় কোনো একজন রোগীর শরীরে আসে।  আগেরটার তুলনায় এটি একটু ডিফিকাল্ট প্রব্লেম।  

কিডনীতে আরো কিছু সিস্ট দেখা যায় যেটা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চিন্তা।  এই সিস্টগুলো গুলো হলো ম্যালিগন্যান্ট সিস্ট।  ম্যালিগন্যান্ট সিস্ট হচ্ছে আসলে এক ধরণের টিউমার।  যা বেশ খারাপ ধরণের টিউমার।  আশার কথা হলো , এই ধরণের রোগীর সংখ্যা খুবই কম।  কাজেই সিস্ট দেখা দিলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।  একজন নেফ্রোলজিস্ট এর সাথে পরামর্শ করে জেনে নিতে হবে সেইটা কোন ধরণের সিস্ট।  

লক্ষণসমূহ : 

এখন মনে প্রশ্ন আস্তে পারে কিডনীতে সিস্ট হলে আসলে কি কি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।  জেনে রাখা ভালো , অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিডনীতে সিস্ট হলে কোনো ধরণের লক্ষণ প্রকাশ পাই না।  কিছু কিছু ক্ষেত্রে এবডোমিনাল পেইন বা ব্যথা হতে পারে।  কারো কারো ক্ষেত্রে যদি সিস্ট খুব বেশি বড় হয়ে থাকে তাহলে মূত্রের যে নালী তার উপর প্রেসার তৈরী হয়।  এর ফলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।  

সিস্ট থাকলে কিছু জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তার মধ্যে একদম কমন একটি হলো ইনফেকশন।  

এবং এই ইনফেকশনের কারণের ব্যথা অনুভব হতে পারে , জ্বর আসতে পারে, ক্ষেত্র বিশেষে ইউরিনের সাথে রক্ত ও বের হতে পারে।  

প্রতিরোধ :

এইবার আসি,  সিস্টকে প্রতিরোধ করতে কি করা যেতে পারে সেই প্রসঙ্গে।  আসলে , সিস্ট প্রতিরোধ করার জন্য সহজ কোনো ওয়ে নেই।  কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিস্ট কেন হয় তা জানা যায় না। এই রোগের জন্য যে কারণ এখনো পর্যন্ত জানা গিয়েছে তা হচ্ছে জেনেটিক কারণে বা বংশ পরম্পরায় হয়ে থাকে। জিনগত অসুখ প্রিভেন্ট করা একটু ডিফিকাল্ট।

তবে প্রতিরোধ করা না গেলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ মেডিসিনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।   যেমন কিছু ক্ষেত্রে মেডিসিন প্রয়োগ করে একটা সিস্ট এর গ্রোথকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।    

একটা সিস্ট কত তাড়াতাড়ি বড় হবে , কত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে তা কিডনীর সাধারণ ফাঙ্কশনালিটির উপর প্রভাব ফেলে তাকে আরো দ্রুত একটা ক্ষয়-ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে এই বিষয়গুলোকে আটকানোর জন্য ওয়ে রয়েছে।    আর যেটা প্রিভেন্ট করা সম্ভব তা হলো সিস্ট রিলেটেড কমপ্লিকেশন্স যেমন – সিস্ট থেকে ব্লিডিং , ইনফেকশন এইগুলো প্রিভেন্ট করার ওষুধ নিশ্চয়ই রয়েছে।  

উৎস : 

ডাঃ প্রতিম সেনগুপ্ত 

নেফ্রোলজিস্ট এন্ড রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট ফিজিশিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published.